নাহিদ থেকে সামিহা: এক পরিবারের সোনালি গল্প

নাহিদ থেকে সামিহা: এক পরিবারের সোনালি গল্প

জুন ৮, ২০২৫ - 00:05
 0  38
নাহিদ থেকে সামিহা: এক পরিবারের সোনালি গল্প
নাহিদ থেকে সামিহা: এক পরিবারের সোনালি গল্প

গ্রামের মাটির গন্ধে বড় হওয়া আমিরুল হোসেন একজন সাধারণ কৃষক। ঘাম ঝরিয়ে জমিতে কাজ করে তিনি ও স্ত্রী সুফিয়া খাতুন স্বপ্ন দেখতেন—তার সন্তানরা একদিন গ্রামের সীমানা পেরিয়ে শহরের আলোয় নিজেদের জায়গা করে নেবে। সেই স্বপ্ন ছিল না বিলাসী, বরং একান্তই দরকারি—অন্ধকার ঘরের একটুখানি আলো, মায়ের চোখের নিচে কালো দাগের বদলে হাসি, আর ছেলেমেয়েদের মুখে আত্মবিশ্বাস।

তিন ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে তাঁর সংসার। দিনের শেষে ধান শুকানোর আঙিনায় বসে তিনি সন্তানদের বলতেন, পড়ো বাবা, পড়লেই মানুষ হতে পারবা।

সময়ের স্রোতে একদিন তার বড় ছেলে সরকারি চাকরিতে যোগ দিল। ঘরে উৎসবের হাওয়া, প্রতিবেশীরাও বলতে লাগলো, আমিরুল ও সুফিয়ার ছেলে এখন সরকারি চাকুরীজীবী! তারপর একে একে মেজ আর ছোট ছেলে—তাদের জীবনেও এল চাকরির আনন্দ। একমাত্র মেয়েটিরও বিয়ে দিলেন সম্মানের সাথে, ভাল ঘরে, ভাল মানুষের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

দারিদ্র্য যেন হঠাৎ হার মেনে গেল এই পরিবারে। সংসারে এল সচ্ছলতা, খাবারে বৈচিত্র্য, ছেলেদের মুখে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা।

কিন্তু সময় বড়ো নিষ্ঠুর! সন্তানেরা যে যাঁর জীবনে ব্যস্ত হয়ে গেল। ঘর বড়ো হলেও মনে শূন্যতা। আমিরুল আর তার স্ত্রী সুফিয়া খাতুনের দুজনেই ভাবতেন, বাড়ি যেন বড়ো হইছে, কিন্তু মনটা ফাঁকা হইয়া গেছে।

ঠিক তখনই সেই ঘরে এলো প্রথম আলো—নাতি মোঃ নাহিদ হোসেন। তাকে কোলে নিয়েই সুফিয়া বললেন, এই তো আমার নতুন সকাল। একে একে আসতে লাগল আরও নাতি—মোঃ নাঈম, মোঃ নাফিস, মোঃ নাসিফ আর মোঃ নিশাত। ঘরজুড়ে আবার কোলাহল, আবার হাসির শব্দ।

কিন্তু একসময় তারা বুঝলেন, এই আনন্দে কিছু একটা অপূর্ণ। ঘরের এক কোণে যেন কারও অভাব অনুভব হয়। একদিন সেই অভাবও পূর্ণ হলো, ঘরজুড়ে আসলো এক টুকরো রোদের মতো রাজকন্যা সামিহা।

সামিহা এলে ঘরের আদর যেন তার আশেপাশেই ঘোরাফেরা করে। ভাইয়েরা তাকে নিয়ে খেলা করে, দাদু-দাদী তার মুখে হাসি দেখতে পেলে দিনের ক্লান্তি ভুলে যায়।

আজ আমিরুল হোসেন আকাশের দিকে তাকিয়ে বলেন, আমার জীবন বৃথা যায়নি। আমি শুধু ধান ফলাইনি, মানুষ ফলাইছি।

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

লাইক লাইক 1
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 2
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখিত দুঃখিত 0
ওয়াও ওয়াও 1