জুলাই সনদের প্রস্তাবনা ও গণভোট কি জানেন না ভোটাররা?

জানুয়ারি ১১, ২০২৬ - 23:17
জানুয়ারি ১২, ২০২৬ - 01:11
 0  9
জুলাই সনদের প্রস্তাবনা ও গণভোট কি জানেন না ভোটাররা?
জুলাই সনদের প্রস্তাবনা ও গণভোট কি জানেন না ভোটাররা?

শওকত জামান |

জামালপুরের ভোটাররা আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে বেশ সরব হলেও গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা চোখে পড়ছে না। ভোটের আড্ডাগুলোতে রাজনৈতিক দল, প্রতীক ও প্রার্থী নিয়েই ঘুরপাক খাচ্ছে আলোচনা। কিন্তু জুলাই সনদের প্রস্তাবনা কিংবা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ ভোট দেওয়ার বিষয়টি অধিকাংশ ভোটারের কাছেই অজানা রয়ে গেছে। জেলা জুড়ে গণভোট বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা খুবই সীমিত থাকায় সাধারণ ভোটারদের বড় একটি অংশ জানেই না—ভোটের দিন সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটেও তাদের অংশ নিতে হবে। অথচ ওই গণভোটের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবনাগুলোর ভবিষ্যৎ।

গণভোট ও জুলাই সনদ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারের দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জামালপুর জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব ও জুলাই যোদ্ধা সাফায়াত আবেদীন তুর্য। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম, বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও, দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব চ্যানেল, প্রচারপত্র এবং সভা-সেমিনারের মাধ্যমে জুলাই সনদের প্রস্তাবনা ও গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে। কেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া জরুরি—তা জনগণকে জানাতে হবে।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনের ৬২৩টি ভোটকেন্দ্রে মোট ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৫৪ হাজার ১২৯ জন, নারী ভোটার ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৪১ জন। তরুণ ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৫৫১ জন।জামালপুরের ১৩ হাজার ৯৮৮ জন প্রবাসী ভোটার পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত হয়েছেন। তবে জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত জটিলতায় প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করতে পারেননি। ফলে তারা সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ হারাচ্ছেন।

জামালপুর জেলা সমিতি (ইউকে)-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শামীম জামান বলেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা এবং সময় বাড়ানো প্রয়োজন। না হলে প্রবাসীদের ভোটাধিকার কার্যত খর্ব হচ্ছে। 

আমেরিকা প্রবাসী ও গ্যানন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিজা আনজুম রওজা বলেন, আমি নতুন ভোটার। জুলাই বিপ্লবে আমরা প্রবাস থেকেও আন্দোলন করেছি। কিন্তু জটিল নিবন্ধন প্রক্রিয়ার কারণে পোস্টাল ভোটে নিবন্ধিত হতে পারিনি। এতে গণভোটে অংশ নিয়ে জুলাই সনদের পক্ষে ভূমিকা রাখার সুযোগ হারালাম।

যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, গারো পাহাড়সংলগ্ন দুর্গম গ্রাম এবং ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা এলাকার মানুষজন গণভোট সম্পর্কে প্রায় সম্পূর্ণ অজ্ঞ। স্বাক্ষরজ্ঞান ও শিক্ষার অভাবে তারা গণভোট কী, ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট কেন দিতে হবে কিছুই জানেন না।

যমুনার চরাঞ্চলের সাপধরী ইউনিয়নের প্রজাপতি গ্রামের কৃষক আব্দুল হক বলেন, শুনতাছি এমপি নির্বাচন হইবো। গণভোট কিসের, তা জানি না। আমরা তো এমপিতেই ভোট দিমু।

শহরের পাঁচরাস্তা মোড়ের রশিদের চা স্টলে কথা হয় অটোরিকশাচালক চাঁন মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ১৫ বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইছি। কিন্তু গণভোট আবার কিসের এইটা কিছুই জানি না।

একই অবস্থা মুদি দোকানি, হোটেল মালিক, গৃহবধূ, দিনমজুর থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষের। অধিকাংশই জানেন শুধু এমপি নির্বাচন হবে, কিন্তু গণভোট ও জুলাই সনদের প্রস্তাবনা সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ অজ্ঞ।

গণভোট বিষয়ে প্রচারণার ঘাটতি প্রসঙ্গে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, আমরা প্রত্যেক উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে। মাইকিং, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রজেক্টরের মাধ্যমে ভার্চুয়াল প্রচার, ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মসজিদ-মাদ্রাসায় ইমামদের দিয়ে প্রচার এবং দুর্গম এলাকায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও সরকারি দপ্তরের ফেসবুক পেজ থেকেও প্রচার চালানো হবে।

ভোটের দিন ঘনিয়ে এলেও জামালপুরের বড় অংশের ভোটার এখনো জানেন না—গণভোট কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা ও প্রচার বাড়ানো না গেলে গণভোটের প্রকৃত উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

লাইক লাইক 2
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখিত দুঃখিত 0
ওয়াও ওয়াও 0