চাঁদের মতো এসে ভালোবাসায় জড়িয়ে নিল সবাইকে "রাজকন্যা সামিহা"
চাঁদের মতো এসে ভালোবাসায় জড়িয়ে নিল সবাইকে "রাজকন্যা সামিহা"
স্নেহ, ভালোবাসা আর পরিবার—এই তিনটি শব্দ যেন মিলে এক অলিখিত রাজ্যের নাম, যার কেন্দ্রে আছে একটি ছোট্ট মেয়ে, সামিহা।
সামিহা তাদের পরিবারের একমাত্র রাজকন্যা। তার আগে পাঁচ ভাই—নাহিদ, নাঈম, নাফিস, নাসিফ ও নিশাত। একেকজন একেক স্বভাবে গড়া, কিন্তু সবাই মিলে এক অদ্ভুত মায়াবী বন্ধনে বাঁধা।
নাহিদ আর নাফিস বড় হয়েছে দেশের নানা প্রান্তে। কখনো ময়মনসিংহ, কখনো খুলনা, আবার কখনো বরিশালের কোন নিভৃত কোণে। বাবার সরকারি চাকরির বদৌলতে তাদের পরিচয় হয়েছে বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি আর মানুষের সাথে।
নাঈম ও নিশাত বড় হয়েছে নিজের গ্রামে, তবে তারাও বাবার চাকরির কারণে কখনো কখনো ভিন্ন পরিবেশে কাটিয়েছে দিন।
আর নাসিফ ও সামিহার বেড়ে ওঠা—তাদের গল্প একটু আলাদা। ঢাকা শহরের ব্যস্ততা, আলো-আঁধারির শহুরে জীবনেই তারা বড় হয়েছে। তার বাবা বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত আছেন।
সবচেয়ে ছোট বলে সামিহা যেন ভাইদের চোখে এক স্বপ্নময় ফুল। পাঁচ ভাইয়ের মাঝে যেন এক ছোট্ট দীপ্ত তারা, যার চারপাশে ছড়িয়ে থাকে শুধু ভালোবাসা আর স্নেহের কণা।
ঈদ আসলেই যেন নতুন করে জেগে ওঠে পরিবারটা। গ্রামের পুরোনো বাড়িতে সবাই একসাথে মিলিত হলে সেই আনন্দের মাত্রা বেড়ে যায় শতগুণ। রান্নাঘরে দাদির হাঁসফাঁস, উঠানে ভাইদের হাসির ঝরনা, আর ঘরের এক কোণে সামিহার খুনসুটি—এই মিলেই যেন পূর্ণ হয় ঈদের রঙিন চিত্রপট।
এইবার কোরবানির ঈদে সবাই একসাথে হলেও ছিল একটুখানি অভাব—সামিহার মেজো বাবা, যিনি কর্মস্থলে থেকে যেতে বাধ্য হন। এই না থাকা যেন পুরো পরিবারে এক অপূর্ণতার ছায়া ফেলেছিল।
সামিহা তা বুঝে না বুঝে প্রতিদিনই সন্ধ্যায় তার বড় বাবাকে টানতে টানতে বলে—
"বাবা, বেড়াতে যাবো। বিকেল হয়ে গেছে।"
বড় বাবা যদি কখনো ঘুমিয়ে থাকেন, সামিহার ছোট্ট নিষ্পাপ হাত উঠে যায় তার চুলের ভেতর। সে বিলি কাটে, আদর করে, আর মিনতির স্বরে ফিসফিসিয়ে বলে—
"উঠো না বাবা, বেড়াতে যাবো না?"
তার সেই ডাক—মিষ্টি আর কোমল—এক নিঃশব্দে যেন পুরো পরিবারকে জাগিয়ে তোলে।
দাদা বলেন, “এই মেয়েটা না থাকলে এ ঘরে এত আলো আসত?”
দাদি বলেন, “চাঁদ শুধু আকাশেই না, আমাদের ঘরেও এক চাঁদ আছে।”
আর ভাইরা? তারা যেন ছায়ার মতো ঘিরে থাকে সামিহাকে। কেউ তার জন্য খেলনা কিনে আনে, কেউ তার পছন্দের রঙিন জামা, কেউ চুলে বেণি করে দেয়, আর কেউ গল্প বলে শোনায় রূপকথার রাণীর।
এই রাজ্য ছোট, কিন্তু ভালোবাসায় বিশাল। আর সেই রাজ্যের রাজকন্যার নাম—সামিহা।
একজন শিশু, যে শুধু পরিবারের সদস্য না, সে যেন একটি অনুভব, একটি আবেগ—একটি মায়ার নাম।
ঈদের আনন্দ হোক কিংবা দিনের ক্লান্তি—সামিহার উপস্থিতি মানেই নতুন এক আলো, এক সজীবতা।
কারণ সে শুধু ভাইদের বোন নয়, সে পুরো পরিবারের প্রাণ।
সে—আমাদের রাজকন্যা সামিহা।
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
লাইক
1
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
মজার
0
রাগান্বিত
0
দুঃখিত
0
ওয়াও
0