নদীর প্রাণের ছোঁয়ায় দুই ভাইয়ের ঈদের গল্প: পদ্মার তীরে স্মৃতিমাখা বিকেল

নদীর প্রাণের ছোঁয়ায় দুই ভাইয়ের ঈদের গল্প: পদ্মার তীরে স্মৃতিমাখা বিকেল

জুন ১৪, ২০২৫ - 14:34
জুন ১৪, ২০২৫ - 14:58
 0  95
নদীর প্রাণের ছোঁয়ায় দুই ভাইয়ের ঈদের গল্প: পদ্মার তীরে স্মৃতিমাখা বিকেল

ঈদের খুশি যেন চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়ির উঠোনজুড়ে ছিল কোরবানির ধোঁয়া আর গরুর ডাকে ভরপুর এক অন্যরকম সকাল। ঈদুল আজহার পরদিন, একটু প্রশান্তি আর প্রকৃতির টানে দুই ভাই—মোঃ নাসিফ হোসেন (বামে, লাল পোশাকে) ও মোঃ নিশাত হোসেন (ডানে, হলুদ জামায়)—চলে আসে পদ্মা নদীর তীরে।

নদীর পাড়ে বাতাসটা একটু বেশি সরল, একটু বেশি সত্য। যেন শহরের কোলাহল থেকে দূরে এই জায়গাটায় প্রকৃতি আজও তার মূল রূপে রয়ে গেছে। ছোট ছোট ঢেউ খেলছে পদ্মার বুকে, আর দুই ভাই হাঁটছে পাড়ের পাথর বসানো পথে।

নাসিফ আর নিশাত—দুই ভাইয়ের মধ্যে বয়সের পার্থক্য থাকলেও সম্পর্কের গভীরতায় নেই কোনো কমতি। ওদের চোখে চোখে খেলা করে একরাশ কৌতূহল, ভালোবাসা আর ভাইয়ে ভাইয়ে অদ্ভুত এক বন্ধন।

নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে তারা দেখে ধানক্ষেতের সবুজ বিস্তার, দূরের ভেজা হাওয়ার হিম ছোঁয়া। কোথাও গরু চরাচ্ছে একজন রাখাল, আর কোথাও একঝাঁক পাখি ভেসে যাচ্ছে আকাশ ছুঁয়ে।

এখানে দাঁড়িয়ে, যেন দুই ভাই শুধু প্রকৃতির রূপই উপভোগ করছে না—তারা খুঁজে নিচ্ছে তাদের শিকড়, তাদের ছোটবেলার সেই সরল আনন্দগুলো। পদ্মা তাদের কাছে শুধু একটা নদী নয়; এটি যেন তাদের পারিবারিক বন্ধনের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি, যেখানে ঈদের খুশি, গ্রামের নিরবতা আর নদীর গভীর প্রশান্তি মিলে একাকার হয়ে যায়।

নাসিফ পাথরের ওপর পা ঠুকিয়ে হাসছে, নিশাত কিছুটা গম্ভীর মুখে তাকিয়ে থাকলেও ভেতরে তারও উচ্ছ্বাস কম নয়। হয়তো সে বোঝে না, কিন্তু অনুভব করে—এই সময়গুলো জীবনের সবচেয়ে নিখাদ, সবচেয়ে নিস্তব্ধ সুন্দর মুহূর্ত।

পদ্মার তীর, দুই ভাই, আর ঈদের পরদিনের সেই মেঘলা রোদ মেশানো হাওয়া—সব মিলিয়ে যেন এক স্বপ্নের আলপনা হয়ে হৃদয়ে আঁকা থাকে চিরকাল।

 প্রতিটি নদীমাতৃক এলাকার মানুষের অন্তরের সেই আবেগের, যা আমরা প্রকৃতির মাঝে খুঁজে পাই ঈদের খুশির পরে, শান্ত দুপুরে, নদীর তীরে।

আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
মজার মজার 0
রাগান্বিত রাগান্বিত 0
দুঃখিত দুঃখিত 0
ওয়াও ওয়াও 0