ছাদের কোণে বসে ছিল এক স্বপ্নীল মন: নাহিদের পথচলার গল্প
ছাদের কোণে বসে ছিল এক স্বপ্নীল মন: নাহিদের পথচলার গল্প
রংপুর শহরের এক পুরনো বাড়ির ছাদ। হালকা মেঘলা আকাশ, গাছের পাতার ফাঁকে হাওয়া ঢুকে হালকা শিহরণ জাগায়। সেই ছাদে একটি কাঠের পুরনো চেয়ার। চেয়ারটিতে বসে আছে একটি কিশোর—নাহিদ। চোখে তার এক অদ্ভুত ভাবনার ছায়া। হয়তো মনটা তখন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে, নিজ গ্রামে, হয়তো রংপুর শহরের ব্যস্ত রাস্তায় বাবার হাত ধরে প্রথম স্কুলে যাওয়া স্মৃতিতে।
ছেলেটির নাম নাহিদ। তার শিকড় ফিলিপ নগরের দফাদার পাড়া গ্রামে, তবে শৈশব কেটেছে দেশের নানা প্রান্তে। কারণ তার বাবা একজন সরকারি কর্মকর্তা। চাকরির সুবাদে আজ রংপুর তো কাল খুলনা। আর নাহিদের জীবন মানেই ছিলো—নতুন শহর, নতুন স্কুল, নতুন বন্ধু। তবে তার হৃদয়ের একটা কোণ সবসময় আটকে থাকতো সেই ফিলিপ নগরের দফাদার পাড়া গ্রামের বাড়িতে। দাদির গলা ধরা গান, আমগাছের ছায়া, বর্ষায় ভিজে যাওয়া পুকুরপাড়—সব স্মৃতি তাকে ডাকতো বারবার।
ছবির সেই মুহূর্তে নাহিদের চোখে স্বপ্ন। তখন সে রংপুর জেলা স্কুলে পড়ে, হয়তো নতুন কোনো জেলায় এসে পুরনো বন্ধুদের কথা ভাবছিল। হয়তো ভাবছিল, বড় হলে সে কী হবে। তার চোখে তখন ইঞ্জিনিয়ার হবার রঙিন স্বপ্ন। সে জানে, বাবার মতো সংগ্রামী মানুষ হতে হলে শুধু কাগজে লেখা সার্টিফিকেট নয়, চাই মানসিক শক্তি আর অধ্যবসায়।
ছবিটি তোলা হয়েছিল ব্যাংকার নুরুল হকের বাড়ীর ছাদে, রংপুরে। অনেক বছর পর আজ নাহিদ সেই কিশোরটি আর নেই। সে এখন ময়মনসিংহ শহরের একটি সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র, পঞ্চম সেমিস্টারে পড়ছে। তার জীবন এখন ক্লাস, ল্যাব, প্রজেক্ট আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন ঘিরে। তবে এই ছবিটা তার হৃদয়ে গেঁথে আছে চিরকাল।
ছবির ছেলেটা হয়তো তখন ভাবছিল—
আমি একদিন এমন কিছু করব, যেটা আমার বাবার গর্ব হবে। আমি নিজের গ্রামের জন্য, দেশের জন্য কিছু করব। যে কাঁধে বাবার স্বপ্ন জমে আছে, সেই কাঁধে আমি তুলে নেব নিজের স্বপ্নটাও।
ছবির সেই চুপচাপ ভাবনার কিশোর আজও জীবিত—সে এখন তরুণ, তার ভেতরে ঢেউ খেলে যায় সাহস, আবেগ আর স্বপ্নের।
এই ছবিটা শুধু একটি মুহূর্তের নয়—এটা এক জীবন সংগ্রামের, ভালোবাসার, এবং ভবিষ্যতের গল্প। এক তরুণের চোখে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম, শহর, এবং স্বপ্নের রং মিশে আছে এখানে।
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
লাইক
1
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
মজার
0
রাগান্বিত
0
দুঃখিত
0
ওয়াও
0