জামালপুরে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার ১১টি চোরাই মোটরসাইকেল
জামালপুরে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার ১১টি চোরাই মোটরসাইকেল
জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযানে ১১টি চোরাই মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে। জামালপুর, মেলান্দহ, শেরপুর সদর ও শ্রীবরদী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
জামালপুর জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিনের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-১)-এর উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ সোহাগ রানা ও এসআই মোঃ শাহজাহানের নেতৃত্বে পৃথক দুটি দল অভিযান পরিচালনা করে।
জামালপুর সদর থানার মামলা নং-১৭/১৬৮ (তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬), পেনাল কোডের ৩৭৯, ৩৮০, ৪১১ ও ৪১৩ ধারার তদন্তের ধারাবাহিকতায় চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।
দুই দলের অভিযান
পুলিশ জানায়, এসআই সোহাগ রানার নেতৃত্বাধীন দল ৬ সেপ্টেম্বর তিনজনকে গ্রেফতার করে এবং ২টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন জামালপুরের বাঘাইদ বোর্ডঘর এলাকার দুলাল শেখের ছেলে নিরব হোসেন (২৬), কাটরাবাড়ীর সামছুল হকের ছেলে মাহফুজ আহমেদ (৩০) এবং মেলান্দহের কুলিয়া দক্ষিণ পাড়ার তাহিরুল ইসলামের ছেলে মোঃ বরকতউল্লাহ ওরফে সবুজ ওরফে মুনসি।
অন্যদিকে এসআই শাহজাহানের নেতৃত্বাধীন দল ৮ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করে এবং ৯টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। এই দলের হাতে গ্রেফতার হন:
মেলান্দহের বাঘাতোরা এলাকার মজিবরের ছেলে আবু বকর সিদ্দিক (৮ সেপ্টেম্বর)
শেরপুর সদরের কামারচর এলাকার মোঃ সাইফুল ইসলামের ছেলে মোঃ ওমর ফারুক (২৮) (৯ সেপ্টেম্বর)
শ্রীবরদীর বারার চর এলাকার আঃ ছামাদ খানের ছেলে মোঃ সাদ্দাম হোসেন (৩৮) (৮ সেপ্টেম্বর)
শ্রীবরদীর চর হাবর কদমতলী এলাকার দয়েহ উদ্দিনের ছেলে আঃ রাজ্জাক (৫৮) (১৪ সেপ্টেম্বর)
শ্রীবরদীর হালগড়া এলাকার ছমেদ আলীর ছেলে আমির হোসেন (২৮) (১৪ সেপ্টেম্বর)
জামালপুরের রশিদপুর ভাটিপাড়া এলাকার মোঃ আলতাব আলী মেম্বারের ছেলে রবিউল ইসলাম সোহাগ (২৬ সেপ্টেম্বর)
উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেল
উদ্ধার হওয়া ১১টি মোটরসাইকেলের মধ্যে রয়েছে বাজাজ ডিসকভার (১১০ ও ১২৫ সিসি), অ্যাপাচি আর.টি.আর ১৫০ সিসি, হিরো হাঙ্ক ১৫০ সিসি, বাজাজ পালসার ১৫০ সিসি এবং ১১০ সিসির কয়েকটি মোটরসাইকেল।
তদন্তে যা জানা গেছে
পুলিশ জানায়, তদন্তে দেখা গেছে, নিরব হোসেন বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে আবু বকর সিদ্দিকের মাধ্যমে বিক্রির জন্য সরবরাহ করতেন। পরে জামালপুর, শেরপুরসহ আশপাশের এলাকায় সেগুলো বিক্রি করা হতো। উদ্ধার করা মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিকানা যাচাই করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় মালিকদের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য
পুলিশ সুপার মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, মোটরসাইকেল চুরি সাধারণ মানুষের জন্য শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, এটি তাঁদের নিরাপত্তাবোধ ও আস্থার ওপরও আঘাত। চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার ও ১১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টার ফল।
তিনি আরও বলেন, চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচাও অপরাধ। তাই সবাইকে বৈধ কাগজপত্র যাচাই করে মোটরসাইকেল কেনার এবং সন্দেহজনক তথ্য পেলে নিকটস্থ থানায় জানানোর অনুরোধ জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, জনগণের সহযোগিতায় চক্রের বাকি সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ জানায়, চক্রের অন্যান্য সদস্যকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
মজার
0
রাগান্বিত
0
দুঃখিত
0
ওয়াও
0