"মা, আমি আবার স্কুলে যাবো কবে?" করডোমা টিউমারে আক্রান্ত ছোট্ট তাশরিফ মৃত্যুর প্রহর গুনছে, একটুখানি সহানুভূতিতেই বাঁচতে পারে তার জীবন
"মা, আমি আবার স্কুলে যাবো কবে?" করডোমা টিউমারে আক্রান্ত ছোট্ট তাশরিফ মৃত্যুর প্রহর গুনছে, একটুখানি সহানুভূতিতেই বাঁচতে পারে তার জীবন
জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুর জেলা স্কুলের প্রভাতি শাখার ৫ম শ্রেণির ছাত্র মোঃ তাশরিফ (রোল-৪)—একজন মেধাবী ও প্রাণচঞ্চল শিশু। শিক্ষক, সহপাঠী ও বন্ধুদের সঙ্গে যার সম্পর্ক ছিলো অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রাঞ্জল। অথচ নির্মম বাস্তবতায় আজ তাশরিফ মৃত্যুর মুখোমুখি।
গত জানুয়ারি মাসে তাশরিফের গলায় একটি টিউমার ধরা পড়ে। প্রাথমিকভাবে ঢাকার একটি হাসপাতালে অপারেশন করা হলে কিছুদিনের জন্য সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসে সে। ফের স্কুলে ক্লাস শুরু করে। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে পুনরায় তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এরপর দীর্ঘ ছয় মাস ধরে এনা মেডিকেল, মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালসহ একাধিক চিকিৎসাকেন্দ্রে থেরাপি চলতে থাকে।
তাশরিফের শরীরে ইতোমধ্যেই ৩০টিরও বেশি থেরাপি দেওয়া হয়েছে। এতে আগের টিউমার কিছুটা ছোট হলেও, চিকিৎসকদের মতে নতুন করে করডোমা (Chordoma) নামের আরও তিনটি জটিল টিউমার ধরা পড়েছে। বর্তমানে কোমর থেকে দুই পা পর্যন্ত তার শরীর অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এমনকি স্বাভাবিকভাবে খাবার খেতে বা প্রস্রাব করতেও পারছে না সে। চিকিৎসকরা জানান, এই করডোমা টিউমার অপারেশন ছাড়াও কিছু বিশেষ বিদেশি মেডিসিনে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে, কিন্তু এসব ওষুধ বাংলাদেশে সহজলভ্য নয়।
গতকাল, ৩০ জুন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তার ইচ্ছানুযায়ী অ্যাম্বুলেন্সে করে সরাসরি নিয়ে আসা হয় জামালপুর শহরের আমলাপাড়ায়। সেখানে জেলা স্কুলের শিক্ষকমণ্ডলী, সহপাঠী ও অভিভাবকরা তাকে একনজর দেখতে ছুটে আসেন। জলিল স্যার, রফি উদ্দিন স্যারসহ অনেকে কান্না চেপে রাখতে পারেননি।
তাশরিফের করুণ অবস্থায় একসময় সে শুধুই বলে উঠল,
"মা, আমি স্কুলে যাবো কবে?"
এই প্রশ্ন যেন পুরো পরিবেশকে ভারী করে তোলে। তাশরিফ এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তার চিকিৎসায় ইতোমধ্যে অর্ধ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। পরিবার আজ নিঃস্ব। কিন্তু এখনো বেঁচে থাকার একটি ক্ষীণ আশার আলো জ্বলছে—যদি উন্নত চিকিৎসা সম্ভব হয়।
আমরা কি পারি না এই শিশুটির জীবনের প্রদীপটিকে আবার আলোর মুখ দেখাতে? আমাদের সামান্য সহানুভূতি, আর্থিক সহায়তা এবং দোয়া হয়তো তাশরিফকে ফিরিয়ে দিতে পারে তার প্রিয় স্কুলে, বন্ধুদের মাঝে, স্বপ্নময় জীবনে।
🔹 সহযোগিতার জন্য:
সোনালী ব্যাংক, জামালপুর কর্পোরেট শাখা, জামালপুর।
সঞ্চয় হিসাব নাম্বার
2608801017036
আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
লাইক
1
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
মজার
0
রাগান্বিত
0
দুঃখিত
0
ওয়াও
0